দশটি ইন্টার্ভিউ প্রশ্নোত্তর যা আপনাকে জানতেই হবে

image-দশটি ইন্টার্ভিউ প্রশ্নোত্তর যা আপনাকে জানতেই হবে

নিচের প্রশ্নগুলো ইন্টার্ভিউ বোর্ডে করা সবচেয়ে কমন প্রশ্ন।  সুতরাং নিজেকে প্রস্তুত রাখুন যাতে প্রশ্নের উত্তরগুলো যথাযথভাবে দিতে পারেন। 

আপনার সবচেয়ে ভালো গুণ কোনগুলো?

এই প্রশ্নটি একটি খুবই কমন প্রশ্নের একটি, যা প্রায় সব ইটারভিউয়ারই জিজ্ঞাসা করে থাকেন। এর উত্তরে অবশ্যই আপনার দক্ষতা ও গুনাবলীকে তুলে ধরুন। এলোমেলো বা বিচ্ছিন্নভাবে না বলে যে চাকরীর জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন তার সাথে সম্পর্কিত দক্ষতা বা গুণগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন। ইন্টার্ভিউ শুরুর আগে এমন প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রস্তুতি নিন। চাকরীর রিকোয়ারমেন্ট এবং আপনার যোগ্যতার মধ্যে সমন্বয় করে যথাযথভাবে উত্তর সাজান।

 

আপনার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা কি?  

আপনার দূর্বলতা সম্বন্ধে জিজ্ঞসা করা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তরে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে যেন কোনো নেতিবাচক কিছু নিজের সম্পর্কে না বলে ফেলেন। বরং আপনার একটি গুনকেই আপনার দূর্বলতা হিসেবে উপস্থাপন করুন। কখনোই কোনো নেতিবাচক জিনিসকে আপনার দূর্বলতা হিসেবে দেখাবেন না। সবসময় ইতিবাচক দিকটিই তুলে ধরবেন। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারেন যে, কাজের ক্ষেত্রে আপনি সবসময় পার্ফেকশান এ পৌঁছুতে চান আর এজন্য কিছুটা বাড়তি সময় লাগলেও আপনি কাজটি নিষ্ঠার সাথেই সম্পন্ন করেন – এটাকেই আপনি আপনার বড় দূর্বলতা মনে করেন এরকম কিছু বলুন যেন ইন্টারভিউয়ারের মনে আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি হয়   

 

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন

নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যক্তিগত তথ্য এড়িয়ে যেতে হবে। নিজের সম্পর্কে বলতে বলা হলে আপনি আপনার একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আপনার আগ্রহ, কাজের ক্ষেত্র, অভিজ্ঞতা, এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করতে পারেন। এছাড়া কোন ধরনের কাজে আপনি বেশি অনুপ্রাণিত বোধ করেন এবং দলগত কাজের ক্ষেত্রে আপনার দক্ষতার কথা জানাতে ভুলবেন না। পারিবারিক তথ্য বা নিজের শখ ইত্যাদি সম্পর্কে বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন যাতে তা বেশি বাড়তি না মনে হয়।

 

এই চাকরীর জন্য কেন নিজেকে যোগ্য মনে করেন?  

আপনি কি নিজেকে এই চাকরীর জন্য যোগ্য মনে করেন? এ ধরণের প্রশ্নের উত্তরের জন্য তৈরি থাকুন। যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন এবং তা কিভাবে এই কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করবে তা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে নিজেকে মূল্যায়ন করুন। 

 

আপনি কেমন বেতন প্রত্যাশা করেন?

আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ প্রশ্ন মনে হলেও এর উত্তর দেয়াটা অতোটা সহজ নয়। ওই কোম্পানিতে নির্ধারিত পোস্টের বেতন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলে জানান যে আপনি কোম্পানির এইচআর পলিসির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আপনি আশা করেন যে কোম্পানি আপনাকে একটি কম্পিটিটিভ স্যালারি অফার করবে। এরপরও আপনার প্রত্যাশা জানতে চাইলে, নিজের প্রত্যাশিত বেতনের কথা জানান। তবে এক্ষেত্রে নির্ধারিত পোস্ট এবং এই পোস্টে সর্বোচ্চ স্যালারি কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে সচেতন থেকে আপনার প্রত্যাশার কথা জানান।

 

কেন আপনি এই চাকরীটি করতে চান?

এরকম প্রশ্ন আপনার জন্য একটি বড় সুযোগ। সুতরাং যে কোম্পানিতে ভাইভা দিতে যাবেন সে সম্পর্কে আগে থেকে ভালোভাবে জেনে নিন। তারা কি কি পণ্য বা সেবা নিয়ে কোথায় কোথায় কাজ করে জানুন। কোম্পানির বর্তমান অবস্থা এবং এর ভালো দিকগুলো সম্বন্ধে খোঁজ নিন। প্রশ্নের উত্তরে সেই বিষয়গুলোকে হাইলাইট করুন এবং এখানে আপনি কি অবদান রাখতে পারেন সে কথা আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান

 

আপনি কিভাবে কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করেন?

এক্ষেত্রে নিজের জীবন থেকে নেয়া কোনো অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারেন যেখানে আপনি খুব সফলভাবে প্রচন্ড কাজের চাপ  বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আপনি বলুন যে, প্রতিদিনকার কাজ প্রতিদিন শেষ করার মাধ্যমে আপনি নিজেকে স্ট্রেস-ফ্রি রাখতে চেষ্টা করেন আর এতে করে সহজেই কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে   

 

আপনার জীবনের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা বলুন যেখানে আপনাকে প্রচন্ড মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছিল?

এ ধরণের প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ইন্টারভিউয়ার আসলে জানতে চান যে কখনো আপনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন কিনা। আর পড়ে থাকলে সেখান থেকে কিভাবে বের হয়েছেন। এরকম প্রশ্নের জন্যে পূর্বোপ্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। আগে থেকে সাজিয়ে রাখবেন যাতে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে আপনাকে অপ্রস্তুত হতে না হয়।  

 

আপনার ভবিষ্যত লক্ষ্য কি?

প্রশ্নকর্তা বুঝতে চান যে আপনাকে নিয়োগ দেয়া হলে আপনি সেখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকবেন নাকি সুযোগ পেলে দ্রুত চাকরী বদল করবেন। এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে সবসময় লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনার ভবিষ্যত লক্ষ্য আপনি যে চাকরীর জন্য ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছেন তার সাথে মিলে যায়। নিজেকে এখন থেকে দশ বছর পরে কোথায় দেখতে চান সে সম্পর্কে বলুন।    

 

আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে?  

শেষ প্রশ্ন হিসেবে অনেক সময় ইন্টারভিউয়ার জিজ্ঞাসা করেন যে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা কোম্পানি বা চাকুরী সম্পর্কে। আগে থেকে গোছানো না থাকলে অনেকসময় এই প্রশ্নের উত্তরে শুধু না বলে শেষ করে দিতে হয়, যা কোম্পানি সম্পর্কে আপনার অনাগ্রহই প্রকাশ করে। তাই এমন প্রশ্নের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। কোম্পানির বা ওই নির্দিষ্ট পোস্টের কোনো বিষয় সম্বন্ধে আপনার জিজ্ঞাসা থাকলে সরাসরি তা জানান। এতে করে ইন্টারভিউয়ার কোম্পানির প্রতি আপনার সচেতনতা টের পাবেন, যা আপনার জন্য ফলপ্রসু হতে পারে। 

Comments • 0