দেবী- মুভি রিভিউ

image-দেবী- মুভি রিভিউ

মুক্তি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেছে জয়া আহসান প্রযোজিত ছবি "দেবী-মিসির আলী প্রথমবার"। মিসির আলী সিরিজের উপর ভিত্তি করে বানানো ছবিটি কি পেরেছে ভক্তদের মন জয় করতে? এখানে ভক্তদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।

 

মিসির আলীকে হাসির খোরাকে পরিণত করা অবশ্যই একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তার বুদ্ধিমত্তা আর যুক্তির সিঁড়ি তৈরি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কৌশল কোথাও ঠিকমতো ফুটে উঠে নি। ছবিতে মিসির আলী নিতান্ত আলাভোলা একজন মানুষ যার সকল চিন্তাভাবনা শুধু "মস্তিষ্ক নিজের মতো রিয়েলিটি তৈরি করে নেয়"- এই একটা লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

 

চঞ্চল চৌধুরী অসাধারণ অভিনয় করলেও পরিচালক এই বিখ্যাত চরিত্রটির প্রতি অবিচার করেছন। বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র ছিল সিরিয়াল কিলার। নীলুর সাথে চিঠির মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তোলা থেকে শুরু করে তার সাথে দেখা করা- পুরো প্রক্রিয়ায় তার একটা অসাধারণ চার্ম ছিল।

 

ছবিতে ইরেশ যাকেরের চরিত্রে সেই আমেজটা অনুপস্থিত। এমনকি বইয়ে নীলুকে মেরে ফেলার আগ মুহূর্তে সে যখন নিজের মানসিক অসুখের কথা বলে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দাওয়ার চেষ্টা করে- সেই গভীরতা সিনেমায় উঠে আসে নি। ইরেশ যাকেরের অভিনয় ও চরিত্র দুটোই কিছুটা খাপছাড়া ছিল। উনার মতো ভালো অভিনেতার কাছে এমনটা অপ্রত্যাশিত ছিল।

 

ছবিতে দেবীর যেই ব্যাকস্টোরি তৈরি করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। মেয়ে দুটির ছায়ামূর্তি বেশ গা ছমছম আবহ সৃষ্টি করেছে পুরো ছবি জুড়েই। কিন্তু পুরুষকণ্ঠের অশরীরী আত্মার কোন ব্যাখ্যা থাকলে ভালো হতো। বাংলাদেশে হরর সিনেমা এখনও তেমন একটা বানানো হয় নি।

 

সেই তুলনায় দেবীর উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সাউন্ড ইফেক্ট একদম পিলে চমকে দেওয়ার মতো ছিল। জাম্প স্কেয়ারগুলো আগে থেকে অনুমান করা গেলেও কিছু কিছু দৃশ্য, বিশেষ করে জিতু মিয়ার ভয় পাওয়ার দৃশ্যটি বিদেশি হরর ফিল্মকেও হার মানায়।

 

পুরো ছবিজুড়ে জয়া আহসান আর অনিমেষ আইচের অভিনয় দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে। সব মিলিয়ে দেবীকে ১০ এ ৬ দেওয়া যায়।

 

লেখক- কানিজ আহমেদ । 

Comments • 0