জীবন থেকে লেখা-০৫

image-জীবন থেকে লেখা-০৫

আমাদের সবার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ নিয়ে আজকে লিখতে যাচ্ছি। আর তা হচ্ছে আমাদের হতাশা বা যাকে আমরা বলি “ডিপ্রেশন”। কারো হতাশা পড়াশুনা নিয়ে, কেউবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হতাশ, আবার কেউ কেউ নিজেকে নিয়েই হতাশ। এর থেকে মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, “এটাকে কি একবারে দূর করার উপায় আছে?”। আমি বলবো নেই। কারণ তুমি নিজের দোষে হতাশ না হলেও তোমার চারপাশের পরিবেশ তোমাকে হতাশ করবেই।

আমার আজ এই পর্যন্ত আসার পেছনে আমার সব থেকে বড় সাপোর্ট ছিল আমার হতাশা। শুনতে অনেকে হাস্যকর লাগে তাই না? সত্যিই তাই। তবে আমি আমার হতাশাগুলোকে সব সময় শিক্ষা হিসেবে নিয়ে থাকি। কারণ নিজের ভুলের কারণেই আমরা হতাশ হই। তবে তাহলে প্রশ্ন আসবে অনেক সময় তো নিজের দোষ না থাকলেও জীবনে ডিপ্রেশন জুড়ে বসে। হ্যাঁ এটাও সত্য। হতাশা আসেই আমাদের শিক্ষা দেয়ার জন্য যেন আমরা আমাদের নিজেদের করা ভুলগুলো শুধরে নিতে পারি বা আশেপাশের পরিবেশ দেখে নিজেরা সতর্ক হতে পারি। কাজেই হতাশাকে নিজের জীবনের সঙ্গী করে একে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। নিজেকে মানসিকভাবে দৃঢ় করতে হবে এমনভাবে যেন যতই কষ্ট আসুক না কেন তুমি তা পার হয়ে যেতে পারো। ভুল করার পর হতাশ হয়ে যদি নিজেদের ঠিক রাখতে না পারি তাহলে বন্ধু ধরে নাও তোমার গেইম ওভার!

আর হ্যাঁ, এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে আর তা হলো আমাদের আশেপাশের মানুষ। আমরা মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষের শিকার হই যাদের কাজই হচ্ছে তোমার আমার ডিপ্রেশনকে নিয়ে মজা করা। কাজেই নিজেদেরকে সেসব মানুষ থেকে দূরে রাখতে হবে যারা তোমার হতাশার সময়ে তোমাকে আরো হতাশ করে তোলে। কারণ তাদের মধ্যে একটা মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়ার মত মানসিকতা কাজ করে না। তাই মিশতে হবে তাদের সাথেই যারা তোমার কষ্টের সময়ে তোমার পাশে এসে দাঁড়াবে।

 

কাজেই হতাশাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি জীবনের একটি অংশ মাত্র!

 

 

Comments • 0